পানি ও খনিজ লবণ শােষণ

পানি ও খনিজ লবণ শােষণ

উদ্ভিদে পানি শােষণ ও খনিজ লবণ শােষণ ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় হয়। আলােচনার সুবিধার জন্য আমরা পানি শােষণ বিষয়টি 

সম্পর্কে আগে জানব।

(a) পানি শােষণ: সাধারণভাবে উদ্ভিদ তার মূলরােমের মাধ্যমে মাটির কৈশিক পানি শােষণ করে। 

প্রস্বেদনের ফলে পাতার কোষে ব্যাপন চাপ ঘাটতির সৃষ্টি হয়, এর ফলে পাশের কোষ থেকে পানি এই কোষের দিকে ধাবিত হয়। 

একইভাবে ঐ দ্বিতীয় কোষটিতে আবার ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয় এবং তার পাশের বা নিচের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়। 

এভাবে ব্যাপন চাপ ঘাটতি ক্রমশ মূলরােম পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং একটি চোষক শক্তির সৃষ্টি হয়। এ চোষক শক্তির টানে মাটির 

কৈশিক পানি মূলরােমে ঢুকে পড়ে। মাটি থেকে মূলরােমে অভিস্রবণ ও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় এ পানি প্রবেশ করে। এভাবে 

মূলরােম থেকে পানি মূলের কর্টেক্সে প্রবেশ করে। এ কাজটিকে কোষ থেকে কোষান্তরে অভিস্রবণ পদ্ধতি বলে। 

একইভাবে পানি অন্তঃত্বক ও পরিচক্র হয়ে পরিবহন কলা গুচ্ছে পৌঁছে যায়। পানি একবার পরিবহন কলায় পৌঁছে গেলে তা 

জাইলেম কলার মাধ্যমে উপরের দিকে এবং পাশের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। এভাবে পানি বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা হয়ে 

উদ্ভিদের পাতায় পৌঁছে যায়। এ কাজে যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া কাজ করে সেগুলাে হলাে, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন।

(b) খনিজ লবণ শােষণ:

অধিকাংশ উদ্ভিদ পানির সাথে কিছু পরিমাণ খনিজ লবণ শােষণ করে, কিছু লবণ মূলরােম দিয়ে শােষিত হলেও মূলত মূলের 

অগ্রভাগের কোষ বিভাজন অঞ্চলই শশাষণ অঞ্চল হিসেবে কাজ করে। খনিজ লবণ

শােষিত হয় আয়ন হিসেবে। শশাষণ প্রধানত দুটি উপায়ে হয়ে থাকে, নিষ্ক্রিয় শশাষণ ও সক্রিয় শশাষণ। নিষ্ক্রিয় শশাষণ: 

উদ্ভিদের এ প্রক্রিয়ায় মূলরােম ইমবাইবিশন ও অভিস্রবণ

প্রক্রিয়ায় লবণ শােষণ করে, কোনাে বিপাকীয় শক্তির প্রয়ােজন হয় না।

সক্রিয় শশাষণ (Active absorption): সক্রিয় শােষণে খনিজ লবণ পরিবহনের জন্য কোষে উৎপন্ন বিপাকীয় শক্তির 

প্রয়ােজন হয়।

উদ্ভিদে পরিবহন:

উদ্ভিদে পরিবহন বলতে মাটি থেকে শােষিত পানি ও খনিজ লবণ এবং পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্যের চলাচলকে বুঝায়। আমরা 

জানি, জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে পানি এবং খনিজ লবণ উদ্ভিদের পাতায় পৌঁছায়। প্রস্বেদন টান, কৈশিক শক্তি এবং মূলজ 

চাপের ফলে কোষরস উদ্ভিদের পাতায় পৌঁ ছে যায় বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন। এভাবে পাতায় পানি পৌঁছালে সেখানে খাদ্য 

প্রস্তুত হয়। প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহনের দায়িত্ব গ্রহণ করে ফ্লোয়েম টিস্যু। এ খাদ্য ফ্লোয়েমের সিভনলের 

মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈব যৌগ ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে বিপরীত দিকে একই সাথে চলাচল করে। উদ্ভিদের 

নিচের দিকের যৌগগুলাে নিচের দিকে, উপরে সংশ্লেষিত যৌগগুলাে উপরের দিকে এবং উদ্ভিদের মাঝামাঝি এলাকায় 

সংশ্লেষিত পদার্থগুলাে উপরে বা নিচে যেকোনাে দিকে প্রবাহিত হয়। 

উদ্ভিদে পরিবহনের প্রয়ােজনীয়তা: পরিবহন অর্থ একস্থান থেকে অন্য স্থানে কোনাে পদার্থের স্থানান্তর। পানি ও খনিজ লবণের 

চলাচলকে উদ্ভিদে পরিবহন বলা হয়। উদ্ভিদে পানি ও খনিজ দ্রব্যের প্রয়ােজনীয়তার কথা সব বিজ্ঞানীই স্বীকার করেছেন। এই 

পানি এবং খনিজ পদার্থ উদ্ভিদের কাজে আসতে হলে সেগুলােকে অবশ্যই বিক্রিয়াস্থল নিয়ে যেতে হবে। এজন্য পানি এবং 

খনিজ লবণ পরিবহন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূলরােম দিয়ে পানি ও খনিজ। লবণ শােষিত হয়ে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কর্টেক্সের মধ্য 

দিয়ে জাইলেম ভেসেলে পৌঁছায় এবং প্রস্বেদন। স্রোতের সাথে ধীরে ধীরে পাতায় গিয়ে পৌঁছে। সেখানে খাদ্য তৈরি হয়। পাতা 

থেকে তৈরি খাদ্য। ফ্লোয়েমের সিভনল দিয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে যায়। কখনাে জাইলেম ভেসেল বা ফ্লোয়েমের 

সিভনল কোনাে কারণে বন্ধ হয়ে গেলে উদ্ভিদের মৃত্যু অবধারিত। এজন্য বলা যায় পরিবহন উদ্ভিদ জীবনে একটি অত্যন্ত 

গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।

পানি ও খনিজ পদার্থের পরিবহন: আমরা ইতােপূর্বে অভিস্রবণ ও ব্যাপন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছি। অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় 

উদ্ভিদ মাটি। থেকে মূল দিয়ে পানি শােষণ করে। মূলরােমের সাহায্যে প্রধানত এ কাজটি হয়। পাশাপাশি উদ্ভিদ মাটি থেকে 

প্রয়ােজনীয় খনিজ পুষ্টিও শােষণ করে। অবশ্য খনিজ পুষ্টি শােষণের পদ্ধতি পানি শােষণ পদ্ধতি থেকে আলাদা। এ বিষয়ে 

উচ্চতর শ্রেণিতে তােমরা বিস্তারিত জানতে পারবে। কোষের ভিতরকার পানি এবং পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণকে এক্ষেত্রে 

কোষরস (cell sap) বলে। এবার আমরা মূল থেকে। উদ্ভিদের সর্বোচ্চ শাখায় এবং পাতায় কীভাবে কোষরস পৌঁছায় তা 

জানব।

কোষরসের আরােহণ: মূল পানি ও খনিজ লবণ শােষণ করে। এ কোষরস বিভিন্ন প্রক্রিয়ার প্রভাবে ধীরে ধীরে উপরের দিকে 

উঠতে থাকে। একই সাথে কোষরসের পার্শ্ব পরিবহনও চলতে থাকে। কোষরস পরিবহনকে দুভাগে ভাগ করা যায়, মাটিতে 

থাকা পানি ও খনিজ লবণগুলাে মূলরােম থেকে মূলের পরিবহন কলায় পৌঁছানাে এবং মূলের পরিবহন কলা থেকে পাতায় 

পৌঁছানাে। প্রথম ধাপে অভিস্রবণ, ব্যাপন ও প্রস্বেদন টান ইত্যাদি পানি এবং খনিজ লবণ শােষণ ও পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ 

ভূমিকা রাখে। মূলরােম দিয়ে শােষিত পানি এবং খনিজ পদার্থ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলরােম থেকে পাশের কোষে যায়। ঐ 

কোষ থেকে তা পুনরায় তার। পাশের কোষে যায়। এভাবে কোষ থেকে কোষে পানি এবং খনিজ পদার্থ চলতে চলতে একসময় 

মূলের পরিবহন টিস্যু হয়ে এবং কাণ্ডের পরিবহন কলা বেয়ে পাতার মেসােফিল কলায় পৌঁছায়।

Post a Comment

أحدث أقدم