বাতাসের চাপ নিয়ে আলোচনা

 

বাতাসের চাপ

বাতাসের একটা চাপ আছে (চিত্র 5.06)। আমরা এই চাপ আলাদাভাবে অনুভব করি না কারণ আমাদের শরীরের 

ভেতর থেকেও বাইরে একটি চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাই দুটো চাপ একটা আরেকটিকে কাটাকাটি করে দেয়। মহাকাশে 

বাতাস নেই, তাই বাতাসের চাপও নেই, তাই সেখানে শরীরের ভেতরের চাপকে কাটাকাটি করার জন্য কিছু নেই 

এবং এ রকম পরিবেশে মুহূর্তের মাঝে মানুষের শরীর তার ভেতরকার চাপে বিস্ফোরিত হয়ে যেতে পারে। সে জন্য 

মহাকাশে মহাকাশচারীরা সব সময়ই চাপ নিরােধক স্পেস স্যুট পরে থাকেন। পৃথিবী পৃষ্ঠে বাতাসের এই চাপ 

10 N/m2 যার অর্থ তুমি যদি পৃথিবী পৃষ্ঠে 1m2 ক্ষেত্রফলের খানিকটা জায়গা কল্পনা করে নাও তাহলে তার 

উপরে বাতাসের যে স্তম্ভটি রয়েছে তার ওজন 105 N, এটা মােটামুটিভাবে একটা হাতির ওজন! এখানে একটা 

বিষয় এখনই তােমাদের খুব ভালাে করে বুঝতে হবে, এটি সত্যি, ওজন হচ্ছে বল এবং এই বলটি

বাতাসের স্তম্ভ নিচের দিকে কাজ করে। বল হচ্ছে ভেক্টর তাই এর মান এবং দিক দুটোরই প্রয়ােজন আছে। চাপ ভেক্টর নয় 

তার কোনাে দিক নেই তাই যেকোনাে জায়গায় চারদিকে সমান। তুমি যেখানে এখন দাঁড়িয়ে কিংবা বসে আছাে তােমার ওপর 

বাতাস যে চাপ প্রয়ােগ করছে, সেটা তােমার উপরে ডানে বামে সামনে পেছনে বা নিচে চারদিকেই সমান। বাতাস কিংবা 

তরল পদার্থের জন্য এটা সব সময়ই সত্যি। 1m 1m7 পাতলা টিন বা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি কোনাে নিচ্ছিদ্র টিন বা 

কৌটা যদি কোনােভাবে বায়ুশূন্য করা যায় তাহলে সেটা দুমড়েমুচড়ে যাবে, তার কারণ স্বাভাবিক অবস্থায় বাইরের বাতাসের 

চাপকে কৌটার ভেতরের বাতাসের পাল্টা চাপ দিয়ে বাতাসের স্তম্ভের ওজন থেকে। একটা সমতা বজায় রেখেছিল। 

ভেতরের বাতাস পাম্প করে সরিয়ে নেবার পর ভেতরে বাইরের বাতাসের চাপ প্রতিহত করার মতাে কিছু নেই, তাই বাইরের 

বাতাসের চাপ টিন বা কৌটাকে দুমড়েমুচড়ে দেবে। তােমরা যে জিনিসটা লক্ষ করবে সেটি হচ্ছে কৌটাটা শুধু উপর দিক 

থেকে দুমড়েমুচড়ে যাবে না। চারদিক থেকে দুমড়েমুচড়ে যাবে। চাপ যদি শুধু উপর থেকে আসত তাহলে টিনটা শুধু উপর 

থেকে দুমড়েমুচড়ে যেত। চাপ যেহেতু চারদিকেই সমান তাই টিনটা চারদিক থেকেই আসছে এবং চারদিক থেকে দুমড়েমুচড়ে 

যাচ্ছে।

 

পৃথিবী পৃষ্ঠে বাতাসের চাপটি আসছে এর উপরের স্তম্ভটির ওজন থেকে। তাই আমরা যদি উপরে উঠি তাহলে আমাদের 

উপরের স্তম্ভের উচ্চতাটুকু কমে যাবে, ওজনটাও কমে যাবে এবং সেজন্য সেখানে বাতাসের চাপও কমে যাবে। বিষয়টি সত্যি 

এবং 5.09 চিত্রে তােমাদের দেখানাে হয়েছে উচ্চতার সাথে সাথে বাতাসের চাপ কেমন করে কমে যায়। যে বিষয়টা তােমাদের 

আলাদা করে লক্ষ করার কথা | সেটি হচ্ছে পাঁচ কিলােমিটার উচ্চতায় পৌঁছানাের পর বাতাসের চাপ অর্ধেক কমে গিয়েছে। 

সাধারণভাবে মনে হতে পারে তাহলে পরের পাঁচ কিলােমিটারে বাকি অর্ধেক কমে সেখানে বাতাসের চাপ শূন্য হয়ে যাচ্ছে না 

কেন? এর একটা সুনির্দিষ্ট কারণ আছে। বাতাস বা গ্যাসকে চাপ দিয়ে। সংকুচিত করা যায়। তাই পৃথিবীর পৃষ্ঠে, যেখানে 

বাতাসের চাপ সবচেয়ে বেশি সেখানে বাতাস। সবচেয়ে বেশি সংকুচিত হয়ে আছে অর্থাৎ বাতাসের ঘনত্ব সেখানে সবচেয়ে 

বেশি। আমরা যতই উপরে উঠতে থাকব বাতাসের চাপ যে রকম কমতে থাকবে তার ঘনত্বও সে রকম কমতে থাকবে। 

উচ্চতার সাথে সাথে বাতাসের ঘনত্ব কমে যাওয়ার অনেকগুলাে বাস্তব দিক আছে। আকাশে যখন | প্লেন উড়ে তখন বাতাসের 

ঘর্ষণ প্লেনের জন্য অনেক বড় সমস্যা। যত উপরে ওঠা যাবে বাতাসের। ঘনত্ব তত কমে যাবে এবং ঘর্ষণও কমে যাবে তাই 

সত্যি সত্যি বড় বড় যাত্রীবাহী প্লেন আকাশে অনেক ওপর দিয়ে উড়ার চেষ্টা করে। সাধারণভাবে মনে হতে পারে তাহলে 

প্লেনগুলাে আরাে উপর দিয়ে, একেবারে মহাকাশ দিয়ে উড়ে যায় না কেন, তাহলে তাে ঘর্ষণ

উচ্চতা (km) প্লেনকে ওড়ানাের জন্য তার শক্তিশালী ইঞ্জিন দরকার আর সেই ইঞ্জিনে জ্বালানি জ্বালানাের জন্য 

অক্সিজেন দরকার। উপরে যেখানে বাতাসের ঘনত্ব কম সেখানে অক্সিজেনও কম, তাই বেশি উচ্চতায় অক্সিজেনের 

অভাব হয়ে।

 

যায় বলে প্লেনের ইঞ্জিন মহাকাশে কাজ করবে না! যারা পর্বতশৃঙ্গে ওঠে তাদের জন্যও সেই একই সমস্যা। যত উপরে উঠতে 

থাকে সেখানে বাতাসের চাপ কমে যাওয়ার সমস্যা থেকে অনেক বড় সমস্যা বাতাসের ঘনত্ব কমে যাওয়ার কারণে 

অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া। 

Post a Comment

أحدث أقدم